নয়াদিল্লি: এসআইআর মামলা এবং পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা আনতে শুরু হওয়া স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া নিয়ে বড়সড় মোড় নিল সুপ্রিম কোর্টে। রাজ্যে ঝুলে থাকা প্রায় ৮০ লক্ষ লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি বা তথ্যের অসঙ্গতি মেটাতে এবার প্রতিবেশী দুই রাজ্য— ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড থেকে বিচারক আনার নির্দেশ দিল শীর্ষ আদালত।
জরুরি ভিত্তিতে হওয়া আজকের এই শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চ স্পষ্ট করে দিয়েছে, ভোটার তালিকা নির্ভুল করার কাজে কোনোভাবেই দেরি করা যাবে না।
Table of Contents
কেন তড়িঘড়ি এগিয়ে এল শুনানির তারিখ?
উল্লেখ্য, এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল মার্চের প্রথম সপ্তাহে। কিন্তু রাজ্যে ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়সীমা এবং নির্বাচন কমিশনের কাজের চাপের কথা মাথায় রেখে মামলাটি আজই (২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মোস্তারি বানো, ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন এবং শুভঙ্কর সরকারের মতো হেভিওয়েট রাজনীতিকরা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেছিলেন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, বাংলার এসআইআর বা স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। এর আগে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে জুডিশিয়াল অফিসারদের দিয়ে এই স্ক্রুটিনি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।
আরও পড়ুনঃ https://thehourglassnews.com/mukul-roy-political-journey-controvrsy-legacy/
৮০ লক্ষ কাজ বাকি: রিপোর্ট দেখে উদ্বিগ্ন প্রধান বিচারপতি
আজকের শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির পক্ষ থেকে একটি বিশেষ রিপোর্ট সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা হয়। সেই রিপোর্ট পর্যালোচনা করে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন:
- বর্তমানে বাংলায় প্রায় ৮০ লক্ষ লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি (Logical Discrepancy) এবং আনম্যাপড তালিকার কাজ বাকি রয়েছে।
- বর্তমান লোকবল দিয়ে যদি দিনে ২৫০টি করে শুনানি নিষ্পত্তি করা হয়, তবে এই বিশাল কাজ শেষ করতে আরও অন্তত ৮০ দিন সময় লাগবে।
- অথচ কমিশনের সময়সূচী অনুযায়ী, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম পর্যায়ের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। এরপর শুধুমাত্র সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব।
আরও পড়ুনঃ https://thehourglassnews.com/mukul-roy-passes-away-news/

ওড়িশা ও ঝাড়খণ্ডের সাহায্য চাইল শীর্ষ আদালত
রাজ্যের মধ্যে পর্যাপ্ত জুডিশিয়াল অফিসার না থাকায় ভিন রাজ্য থেকে সাহায্য নেওয়ার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত নির্দেশ দেন:
- পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অবসরপ্রাপ্ত বিচারকদের এই কাজে নিয়োগ করা যাবে।
- প্রয়োজনে ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ড হাইকোর্টের অধীনস্থ জুডিশিয়াল অফিসারদেরও বাংলায় নিয়ে আসা হবে।
এসআইআর মামলা-য় ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতাই কি মূল লক্ষ্য?
আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির সময়সীমা মাথায় রেখে যুদ্ধেরকালীন তৎপরতায় কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন যাতে নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করতে পারে, তার জন্যই এই বাড়তি বিচারক নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
বাংলার রাজনীতির আঙিনায় এই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে শাসক ও বিরোধী পক্ষের চাপানউতোর দীর্ঘদিনের। সুপ্রিম কোর্টের এই কড়া দাওয়াইয়ের পর এবার স্ক্রুটিনি প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত গতি পায়, সেটাই দেখার।
আমাদের ফলো করুনঃ https://youtube.com/@thgn_2026?si=GBP1nUbYJEXlMZ7i
