জাতীয় বিদ্যুৎ মূল্যায়ন; শেষের দিকে প্রথম ত্রিপুরা: পরিকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় খামতি

জাতীয় বিদ্যুৎ মূল্যায়ন (Rating Regulatory Performance of States and Union Territories 2025)

নয়াদিল্লি/আগরতলা: দেশের বিদ্যুৎ খাতের মানোন্নয়ন ও পরিষেবার স্বচ্ছতা যাচাইয়ে বড়সড় ধাক্কা খেল ত্রিপুরা। সম্প্রতি ‘পাওয়ার ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া’ এবং ‘আরইসি লিমিটেড’-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত জাতীয় স্তরের এক সমীক্ষায় ত্রিপুরার বিদ্যুৎ পরিষেবার বেহাল দশা সামনে এসেছে। ১০০ নম্বরের মধ্যে মাত্র ২১.৫ নম্বর পেয়ে দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন ‘ই’ (E) শ্রেণিতে জায়গা হয়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই রাজ্যের।

জাতীয় বিদ্যুৎ মূল্যায়ন ২০২৬-এর গ্রাফিকাল রিপোর্ট।
জাতীয় বিদ্যুৎ মূল্যায়ন ২০২৬-এর গ্রাফিকাল রিপোর্ট।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্যান্য রাজ্য যেখানে বিদ্যুৎ পরিষেবার নিরিখে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে, সেখানে ত্রিপুরার এই পিছিয়ে পড়া রাজ্যের বিদ্যুৎ খাতের প্রশাসনিক ও পরিকাঠামোগত দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

জাতীয় বিদ্যুৎ মূল্যায়নে প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর সাফল্য বনাম ত্রিপুরার ব্যর্থতা

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রতিবেশী রাজ্য অসম, অরুণাচল প্রদেশ, মেঘালয় ও মিজোরাম শীর্ষস্থানীয় ‘এ’ শ্রেণিতে জায়গা করে নিয়েছে। সিকিম রয়েছে ‘বি’ শ্রেণিতে এবং মণিপুর ও নাগাল্যান্ড ‘সি’ শ্রেণিতে স্থান পেয়েছে। এই তালিকায় একমাত্র ত্রিপুরার অবস্থান সবার নিচে হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই রাজ্যের বিদ্যুৎ নিগমের কর্মপদ্ধতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা ‘রিসোর্স অ্যাডিকুয়াসি’-তে শূন্যজাতীয় বিদ্যুৎ মূল্যায়ন

‘ সম্পদ পর্যাপ্ততা’ বা ফিউচার প্ল্যানিংয়ের ক্ষেত্রে শূন্য নম্বর পেয়েছে , যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আগামী দিনে বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটানোর মতো দীর্ঘমেয়াদী মূলধনী বিনিয়োগ বা বিদ্যুৎ সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনায় বড়সড় ঘাটতি রয়েছে। এই সূচকটি মোট নম্বরের ৩২ শতাংশ হওয়ায় সামগ্রিক ফলাফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

আরও পড়ুনঃ https://thehourglassnews.com/west-bengal-sir-mamla-supreme-court-verdict/

আর্থিক কাঠামো ও গ্রাহক পরিষেবায় অস্বস্তি

রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার আর্থিক স্বাস্থ্যের অবস্থাও খুব একটা সন্তোষজনক নয়। ২৫ নম্বরের মধ্যে রাজ্য পেয়েছে মাত্র ৭.৫

যদিও শুল্ক নির্ধারণ এবং জ্বালানি খরচ সমন্বয়ের মতো কিছু ক্ষেত্রে সামান্য অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে, কিন্তু সামগ্রিক আর্থিক শৃঙ্খলা ফেরাতে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। এছাড়া গ্রাহক পরিষেবা এবং ব্যবসা সহজীকরণের ক্ষেত্রেও ত্রিপুরার প্রাপ্ত নম্বর ২৩-এর মধ্যে মাত্র ৭

নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা বজায় রাখা, আধুনিক মিটার ব্যবস্থা এবং নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রসারেও রাজ্য অনেকটা ধীরগতিতে চলছে।

আরও পড়ুনঃ https://thehourglassnews.com/mukul-roy-political-journey-controvrsy-legacy/

জাতীয় বিদ্যুৎ মূল্যায়ন, ২০২৬-এর গ্রাফিকাল রিপোর্ট, ত্রিপুরার অবস্থান

গ্রিন এনার্জি ও আধুনিকীকরণে স্বচ্ছতার অভাব

জাতীয় বিদ্যুৎ মূল্যায়ন সমিক্ষায় দেখা গেছে , পুনর্নবীকরন শক্তি বা গ্রিন এনার্জি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নীতিগত কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার বাস্তব প্রয়োগে আরও স্বচ্ছতা ও গতির প্রয়োজন রয়েছে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে।

এমনকি নিয়ন্ত্রক প্রশাসনিক কাঠামোর ক্ষেত্রেও রাজ্যের প্রাপ্ত নম্বর শূন্য, যা প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাকে তুলে ধরেছে।

জাতীয় বিদ্যুৎ মূল্যায়নে তলানিতে ত্রিপুরা: উদ্বেগের রিপোর্ট

সামগ্রিকভাবে, জাতীয় বিদ্যুৎ মূল্যায়ন সমিক্ষার এই রিপোর্ট ত্রিপুরার বিদ্যুৎ দপ্তরের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন ও গার্হস্থ্য চাহিদার কথা মাথায় রেখে এখনই যদি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা ও শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গড়ে না তোলা হয়, তবে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংকট প্রকট হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে সঠিক প্রশাসনিক সংস্কার এবং পরিকাঠামো আধুনিকীকরণে জোর দিলে আগামী দিনে এই অবস্থান দ্রুত পরিবর্তন করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

ফলো করুনঃ https://youtube.com/@thgn_2026?si=GBP1nUbYJEXlMZ7i

Logo Icon

The Power Brief !!

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.

Share this:
Scroll to Top