
কলকাতা: বাংলার রাজনীতির অন্যতম কারিগর, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী মকুল রায় আর নেই। সোমবার ভোর ১টা ৩০ মিনিট নাগাদ সল্টলেকের অ্যাপোলো হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত সমস্যা এবং পারকিনসনস রোগে ভুগছিলেন। তাঁর প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করেছেন পুত্র শুভ্রাংশু রায়।
Table of Contents
মুকুল রায়ের রাজনৈতিক জীবন: এক নজরে
মুকুল রায়কে বলা হতো ‘বাংলার রাজনীতির চাণক্য’। পর্দার আড়ালে থেকে সংগঠন গোছানো এবং নির্বাচনের রণকৌশল তৈরিতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল।
- তৃণমূলের উত্থান: ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করেন তিনি। দলের প্রথম সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন মুকুল রায়।
- রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব: ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর মুকুল রায়কে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী করা হয়। তিনি ইউপিএ-২ সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী মুখ ছিলেন।
- দলবদল ও প্রত্যাবর্তন: ২০১৭ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। ২০২১ সালে কৃষ্ণনগর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হলেও, ভোটের পর ফের পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে আসেন।

- সাফল্যের কারিগর: ২০১১ সালে বামফ্রন্টের ৩৪ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনার নেপথ্যে তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতাকে প্রধান শক্তি হিসেবে ধরা হয়।

মৃত্যুর পরবর্তীতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন
মুকুল রায়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে আসে রাজনৈতিক মহলে।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শোক: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছেন, মুকুল রায় তাঁর দীর্ঘদিনের সহযোদ্ধা ছিলেন। তৃণমূলের উত্থানে তাঁর অবদানের কথা ভোলার নয়।
- বিধানসভায় শেষ শ্রদ্ধা: সোমবার সকালে তাঁর দেহ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ শাসক ও বিরোধী দলের অসংখ্য বিধায়ক তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
- বিশিষ্টদের উপস্থিতি: হাসপাতালের বাইরে এবং বিধানসভায় তৃণমূল ও বিজেপি—উভয় শিবিরের প্রথম সারির নেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিজেপির শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার এবং দিলীপ ঘোষও তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
- শেষ কৃত্য: বিধানসভা থেকে তাঁর মরদেহ উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার বাসভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

মুকুল রায়ের প্রয়াণ শুধুমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসের জন্যই নয়, গোটা বাংলার রাজনীতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। দলমত নির্বিশেষে রাজনৈতিক নেতারা তাঁর প্রয়াণকে “একটি যুগের অবসান” বলে অভিহিত করেছেন।
আরও পড়ুনঃ https://thehourglassnews.com/tiger-ranjit-debberma-against-bjp-tripura/
