আগরতলা: ত্রিপুরার দীর্ঘদিনের লিপি বিতর্ক নিয়ে এবার চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আগরতলায় আয়োজিত জাতীয় রাজভাষা সম্মেলনের মঞ্চ থেকে তিনি জানিয়ে দিলেন, নিজের পরিচিতি ও অস্তিত্বকে মজবুত করতে হলে দেশের লিপিকেই আঁকড়ে ধরতে হবে। পরোক্ষভাবে তিপ্রা মথা সহ আঞ্চলিক দলগুলোর রোমান লিপির দাবিকে কার্যত নস্যাৎ করে দিয়ে শাহ প্রশ্ন তোলেন, “বিদেশের লিপিতে কেন নিজের পরিচয় খুঁজবে?”
Table of Contents
শাহের বার্তার মূল পয়েন্টগুলো একনজরে:
- লিপি বিতর্ক ও জাতীয়তাবাদ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, ভাষা বা লিপি বিবাদের বিষয় নয়, বরং এটি দেশের ভাবাবেগের অংশ। উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মতো ত্রিপুরাকেও ভারতীয় লিপি (নাগরিক লিপি) গ্রহণ করার পরামর্শ দেন তিনি।
- রোমান লিপির বিরোধিতা: আঞ্চলিক দলগুলোর রোমান হরফের দাবিকে তিনি ‘বিদেশি’ তকমা দিয়ে স্পষ্ট করেছেন যে, লিপি ইস্যুতে কেন্দ্র পিছু হটবে না।
- বিকাশের ভূমি উত্তর-পূর্ব: ২০১৪ সালের পর থেকে মোদী সরকারের অধীনে উত্তর-পূর্ব ভারত কীভাবে রক্তক্ষয়ী বিবাদ ছেড়ে শান্তির পথে হেঁটেছে, তার খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি। ২১টি শান্তি সমঝোতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই অঞ্চল এখন ভারতের সংস্কৃতির আসল আধার।
- হিন্দি ও আঞ্চলিক ভাষার মেলবন্ধন: শাহ জানান, আঞ্চলিক ভাষা এবং হিন্দি-এই দুয়ের সংমিশ্রণেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব।

আরও পড়ুনঃhttps://thehourglassnews.com/congress-black-flag-protest-amit-shah-visit/
রাজনৈতিক সমীকরণ ও প্রভাব
রাজনৈতিক মহলের মতে, অমিত শাহের এই মন্তব্য সরাসরি তিপ্রা মথার আন্দোলনের ওপর বড় ধাক্কা। লিপি ইস্যুতে যারা পথ অবরোধ বা জোট ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছিল, কেন্দ্রের এই কড়া অবস্থানের পর তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেটাই এখন দেখার।
“ভারতীয় ভাষা ও সংস্কৃতির আসল খাজানা হলো এই উত্তর-পূর্বাঞ্চল। লিপি নিয়ে বিবাদ উসকে দেওয়ার কোনো অবকাশ নেই।” –অমিত শাহ

কেন এই লিপি বিতর্ক?
ত্রিপুরার জনজাতি অংশের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে ককবরক ভাষার জন্য রোমান লিপি ব্যবহারের দাবি জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে দেবনাগরী বা বাংলা লিপির ওপর জোর দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। শাহের এদিনের বক্তব্যে পরিষ্কার হয়ে গেল যে, কেন্দ্র ‘বিদেশি’ লিপি ব্যবহারের পথে হাঁটতে নারাজ।

