আগরতলাঃ দীর্ঘ নির্বাসনের অধ্যায় পেরিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরলেন তারেক রহমান। রাজধানী ঢাকায় রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

প্রয়াত রাষ্ট্রনায়ক জিয়াউর রহমান–এর জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি রাজনৈতিক জয় নয়, বরং দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা মামলা, নির্বাসন ও দলীয় পুনর্গঠনের দীর্ঘ সংগ্রামের পর এক ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তারেক রহমান-র বক্তব্য
শপথ অনুষ্ঠানে দেশ–বিদেশের কূটনীতিক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এবং জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতাদের উপস্থিতিতে তারেক রহমান বলেন, তাঁর সরকার “গণতন্ত্র পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা”কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে।
https://youtube.com/@thgn_2026?si=e7oeyCRtKlyolHQ7
রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকেই বিতর্ক ও প্রতিকূলতা তারেক রহমানকে ঘিরে থাকলেও দল পুনর্গঠন, তৃণমূল সংগঠন শক্তিশালী করা এবং প্রবাস থেকে ভার্চুয়াল নেতৃত্বের মাধ্যমে নির্বাচনী কৌশল সাজানো—এই তিন স্তম্ভের ওপর ভর করেই তিনি আবার মূলস্রোতে ফেরেন।
সমর্থকদের মতে, এই জয় জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন; আর বিরোধীদের ভাষায়, সামনে কঠিন প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে নতুন সরকারের জন্য।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই তিনি প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন।
দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশ–এর অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে নতুন সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়াবে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
নৌকার পতনের পর পদ্মাপাড়ে ধানের শীষের উত্থান—এই রাজনৈতিক পালাবদল শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

