এডিসি ও রোমান লিপি ইস্যু: মথাকে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

এডিসি ও রোমান লিপি ইস্যু: মথাকে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর

এডিসি ও রোমান লিপি ইস্যু: মথাকে কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর
ছবি: গুগল


প্রতিনিধি আগরতলা: রাজ্যের শাসক জোটের অন্দরে যে ফাটল ক্রমশ চওড়া হচ্ছে, রবিবার আগরতলার রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের মঞ্চ থেকে তা আরও একবার স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডক্টর) মানিক সাহা।

এডিসি নির্বাচন, ভিলেজ কমিটির ভোট এবং ককবরক ভাষার স্ক্রিপ্ট ইস্যুতে মথা সুপ্রিমো প্রদ্যোৎ কিশোর দেববর্মার দলকে নাম না নিয়ে তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানালেন, “রাজ্যের জনজাতি অংশের সাধারণ মানুষকে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে।ত্রিপুরায় রাজতন্ত্র শেষ, এখন চলছে গণতন্ত্র।”
এডিসি এবং ভিলেজ কমিটির নির্বাচন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মথা নেতৃত্বের কড়া সমালোচনা করেন।

এক এক সময় এক এক ধরনের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে এডিসি দখলের অলীক স্বপ্ন দেখা হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে জয়ী হওয়ার যে দাবি করা হচ্ছে, তাকেও তিনি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন।

তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, দেশের শীর্ষ আদালত কেবল রাজ্য সরকারকে এটি ভেবে দেখতে বলেছে যে এডিসি এলাকার সাধারণ নির্বাচন এবং ভিলেজ কমিটির নির্বাচন একসঙ্গে করা সম্ভব কি না। ফলে একে রাজনৈতিক জয় হিসেবে প্রচার করাটা জনগনকে ভুল পথে চালিত করার সামিল।
ককবরক ভাষার লিপি বিতর্ক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরকারের অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি জানান যে, ককবরক লেখার ক্ষেত্রে রোমান স্ক্রিপ্ট বা লিপি কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না। এই সিদ্ধান্তটি কোনো ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয় বরং কেন্দ্রের সরাসরি নির্দেশ বলেই তিনি উল্লেখ করেন।

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন যে, সংবিধানের অষ্টম তফশিল অনুযায়ী বিদেশি কোনো ভাষাকে সরকারি অনুমোদন দেওয়ার সুযোগ নেই।
মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি তিপ্রা মথা সুপ্রিমো এবং এডিসি প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ জানান। তিনি বলেন যে, যদি বর্তমান এডিসি কর্তৃপক্ষের লিপি সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো সঠিক সমাধানে পৌঁছানোর সাধ্য না থাকে, তবে তারা যেন সেই দায়িত্ব রাজ্য সরকারের হাতে ছেড়ে দেয়।

বিজেপি সরকার প্রয়োজনে নিজস্ব কমিটি গঠন করে জনজাতিদের একটি উপযুক্ত স্ক্রিপ্ট উপহার দেবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

সামগ্রিকভাবে, এদিনের অনুষ্ঠান থেকে মুখ্যমন্ত্রী শরিক দলের প্রতি যে রনংদেহি মনোভাব দেখিয়েছেন, তাতে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Logo Icon

The Power Brief !!

We don’t spam! Read our privacy policy for more info.

Share this:
Scroll to Top