” ত্রিপুরায় প্রতিদিনই স্ক্রিপ্ট নিয়ে কিছু না কিছু ঘটতে থাকে ” জাতীয় মঞ্চে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর উপস্থিতিতে একথা বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা ।
আগরতলা: বর্তমান সময়ে ভাষা মানুষের মধ্যে বিভেদ নয়, বরং সংযোগ স্থাপনের সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছে। ত্রিপুরায় হিন্দি ভাষার জনপ্রিয়তা ও প্রসার ক্রমাগত বাড়ছে, যা সরকার ও জনগণের মধ্যে এক নিবিড় সুসম্পর্ক তৈরি করেছে।
Table of Contents
শুক্রবার আগরতলার হাঁপানিয়াস্থ আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণের ইনডোর স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘যৌথ আঞ্চলিক ও সরকারি ভাষা সম্মেলন’ (রাজভাষা সম্মেলন)-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই অভিমত ব্যক্ত করেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা।

হিন্দি ও আঞ্চলিক ভাষার মেলবন্ধনে শক্তিশালী ভারত
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন যে, হিন্দি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ভাষা। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রভাষা হিন্দির সাথে সাথে যদি আঞ্চলিক ভাষাগুলো সমান্তরালে চলে, তবে দেশের শক্তি ও সংহতি আরও বৃদ্ধি পাবে।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, স্থানীয় ভাষা আমাদের প্রকৃত পরিচয়, আর হিন্দি সেই পরিচয়ের সাথে জাতীয় ঐক্যের যোগসূত্র স্থাপন করে।
শব্দভাণ্ডারে সমৃদ্ধ হিন্দি
ইংরেজি ও হিন্দি ভাষার তুলনা করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একটি আকর্ষণীয় তথ্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যেখানে ইংরেজিতে শব্দের সংখ্যা প্রায় ১০,০০০-এর কাছাকাছি, সেখানে হিন্দি ভাষায় শব্দের ভাণ্ডার অত্যন্ত বিশাল-আড়াই লাখেরও বেশি শব্দ রয়েছে এই ভাষায়। এই সমৃদ্ধিই হিন্দিকে অনন্য করে তুলেছে।
আরও পড়ুনঃ https://thehourglassnews.com/congress-black-flag-protest-amit-shah-visit/
অটলজি থেকে মোদি: বিশ্বমঞ্চে হিন্দির জয়গান
ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী বিশ্বমঞ্চে হিন্দিতে ভাষণ দিয়ে দেশের সম্মান যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই ধারাকে অত্যন্ত সাফল্যের সাথে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন বলে মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন। বিশ্বস্তরে ভারতের মান বৃদ্ধিতে হিন্দি ভাষার অবদান অনস্বীকার্য।
ত্রিপুরায় শিক্ষার আঙিনায় হিন্দি
মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ত্রিপুরায় হিন্দি বলা এবং বোঝার মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজ্যের বিদ্যালয়, মহাবিদ্যালয় এমনকি বিশ্ববিদ্যালয় স্তরেও হিন্দির পঠনপাঠন ও প্রসারে জোয়ার এসেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের এই যৌথ রাজভাষা সম্মেলন ত্রিপুরার মাটিতে হওয়া রাজ্যের জন্য এক গর্বের বিষয়।

